পাইলট অসিমের বাড়িতে চলছে মাতম
চট্টগ্রামে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তে পাইলট মুহাম্মদ অসিম জাওয়াদের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মা নীলুফা আক্তার আহাজারি করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ মে) বিকেলে সরেজমিনে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানার গোপালপুর গ্রামের গোল্ডেন টাওয়ারে দেখা যায়, স্বজনরা অসিমের মাকে ঘিরে রেখেছেন। আর তিনি বারবার ছেলের কথা বলে আহাজারি করতে করতে মূর্ছা যাচ্ছেন।
এদিন দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্কোয়াড্রন লিডার অসিম জাওয়াদের মৃত্যু হয়।
অসিম জাওয়াদ (৩২) মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানার গোপালপুর গ্রামের ড: আমানুল্লাহ ও নীলুফা আক্তারের ছেলে। তিনি স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে চট্টগ্রামে থাকতেন।
তার মামা সরুজ খান মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবতরণের আগে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমানে আগুন লেগে পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর মোহনায় পড়ার আগে প্যারাশুট দিয়ে নেমে আসেন পাইলট অসিম ও কো-পাইলট সোহেল। এরপর তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই অসিমের মৃত্যু হয়।
আইএসপিআর তখন জানায়, বিমান বাহিনীর ইয়াক-১৩০ (YAK 130) প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমানটি ‘যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে’ দুর্ঘটনায় পড়ে। বিমানের আহত ২ পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বন্দর জোনের উপকমিশনার শাকিলা সোলতানাও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অদূরে অবস্থিত বিমান বাহিনীর জহুরুল হক ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ শেষে নামার সময় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এ সময় জরুরি অবতরণের আগে বিমানটির চাকার নিচের অংশে আগুন ধরে যায়। পরে পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর মোহনায় বিমানটি অবতরণ করা হয়। এ সময় বিমানের পাইলট ও কো-পাইলট প্যারাশুট দিয়ে নিরাপদে নেমে আসেন।
তাদের উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলেও জানান উপকমিশনার শাকিলা সোলতানা।


0 coment rios: